দুটি টুপি

কেপ ভার্দের একটি উপকথা

দুটি টুপি — a story by Pemba Umoja

দিদি সাঁও ভিসেন্তের বাজারে গেল। সেখানকার রংবেরঙের একটা বাকেট হ্যাট কেনার খুব শখ ছিল তার।

“এটা দিন, প্লিজ।”

“৮০০ এস্কুদো লাগবে।”

“৭০০ হলে কেমন হয়?”

“এগুলো আমার মা বানিয়েছেন। অনেক সময় লেগেছে তাঁর।”

“না, ধন্যবাদ,” বলে দিদি হাঁটা দিল।

“দাঁড়ান,” বলল বিক্রেতা। “ঠিক আছে, ৭০০ এস্কুদো।”

“ধন্যবাদ,” উত্তর দিল দিদি, তারপর নতুন রংবেরঙের বাকেট হ্যাটটা মাথায় পরে বিক্রেতাকে টাকা দিল।

কয়েক দিন পর দিদি সান্তো আন্তাওয়ের খাড়া পাহাড়ের ধার দিয়ে হাঁটছিল, উপকূলের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছিল।

“পাথরের দেয়ালটার ওপর একটু বসি,” সে ভাবল।

ঠিক তখনই এক দমকা হাওয়ায় তার টুপিটা উড়ে গেল। সেটা গিয়ে পড়ল খাড়া পাহাড়ের একটা খাঁজে।

একজন মজুর তাকে দেখল।

“আমি এনে দিচ্ছি,” বলে সে তার হার্নেস আনতে গেল।

দিদি খাড়া পাহাড়টার দিকে তাকাল।

“না,” সে মজুরকে বলল। “ঠিক আছে। আমার টুপির চেয়ে আপনি অনেক বেশি দামি।”

পরের হাটবারে দিদি আবার এল। যে বিক্রেতা তাকে টুপিটা বেচেছিল, তাকে সে খুঁজল আর খুঁজল, কিন্তু পেল না। মনে হলো তার দোকান বন্ধ।

সে চলে যাবে, এমন সময় বিক্রেতা এসে হাজির হলো।

“আমার টুপিটা হারিয়ে গেছে। হাওয়ায় উড়ে গেছে,” সে বলল। “আমি সান্তো আন্তাওয়ে ছিলাম।”

“সান্তো আন্তাও — কী সুন্দর জায়গা। কত সবুজ সেখানে,” হেসে বলল বিক্রেতা।

“তাহলে আপনি আরেকটা টুপি চান?”

“হ্যাঁ,” উত্তর দিল দিদি। “একই দামে দিতে পারবেন?”

“গতবার তো আপনাকে ছাড় দিয়েছিলাম,” দীর্ঘশ্বাস ফেলল বিক্রেতা। “তবে একই দামেই দেব।”

“অন্তত আপনার দুটো টুপি তো বিক্রি হলো,” বলল দিদি।

বিক্রেতা মাথা নাড়ল।

দিদি তার থলিতে হাত ঢোকাল। তার মনে পড়ল সেই মজুরের কথা, যে তার প্রথম টুপিটার জন্য প্রায় প্রাণের ঝুঁকি নিতে যাচ্ছিল।

সে ১০০ এস্কুদো বের করল, তারপর আরও ৭০০।

সে বিক্রেতাকে পুরো দামই দিল — ৮০০ এস্কুদো।

দিদি তার দিকে চোখ টিপল।

বিক্রেতা মাথা নাড়ল।

দিদি যখন টুপিটা পরতে গেল, সেটা একটু ছোট হলো।

“অন্তত এটা হাওয়ায় উড়ে যাবে না,” কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল সে।

পেম্বা উমোজার একটি গল্প