ট্রফি
আঁকড়ে ধরে রাখার একটি গল্প

মেরির বয়স যখন ১৩ মাস, তখন তার মা মারা যান। মায়ের গলার আওয়াজ, এমনকি তাঁর মুখটা কেমন ছিল, কিছুই তার মনে নেই। মায়ের গায়ের গন্ধ, এমনকি তাঁর জড়িয়ে ধরার অনুভূতিও সে মনে করতে পারত না।
“অসুস্থতার চিঠিতে তোমার মায়ের সই নিয়ে এসো,” প্রাথমিক স্কুলে পড়ার সময় তার শিক্ষকরা বলতেন। “তোমার মায়ের কাছ থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে এসো।”
মেরি কখনো বুঝত না কী করবে।
একটা ট্রফি ছিল, যেটা তার মা স্কুলে সবচেয়ে দয়ালু হওয়ার জন্য জিতেছিলেন। সেটা তাদের বাড়ির বেসমেন্টে একটা উঁচু তাকে রাখা ছিল, তার নাগাল পাওয়ার পক্ষে অনেক উঁচুতে। সেটা ধুলো আর খসে পড়া রঙের কুচিতে ঢাকা ছিল। মায়ের যে সামান্য কটা চিহ্ন মেরির কাছে ছিল, এটা তার একটা।
বহু বছর পর তার বাবা যখন নতুন সঙ্গী খুঁজে পেলেন, তিনি মেরির ছোটবেলার জিনিসপত্র ফেলে দিতে শুরু করলেন — খেলনা, পুতুল, মেরির যত্নে রাখা স্মৃতিচিহ্ন।
একদিন মেরির বাবার সঙ্গী অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এক সপ্তাহেরও বেশি তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রইলেন।
মেরি ভাবল একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাহায্য করবে।
বেসমেন্টটা ছিল খুব নোংরা, আর তাকগুলো ছিল সবচেয়ে নোংরা। ক্লিনিং স্প্রে, কাগজের তোয়ালে আর স্পঞ্জ নিয়ে মেরি তাকগুলোর পেছনে লাগল, যত্ন করে জঞ্জাল বেছে বেছে সেগুলো গুছিয়ে আলাদা আলাদা ভাগে রাখল।
আলো এখানে।
রং এখানে।
যন্ত্রপাতি এখানে।
সে ট্রফির তাকটা খুঁজে পেল — কিন্তু সেখানে শুধু তার ভাইয়ের বেসবল খেলার বছরগুলোর দুটো ট্রফি রয়ে গেছে।
সে এমনকি পায়ের আঙুলের ডগায় ভর দিয়েও দাঁড়াল।
তার মায়ের ট্রফি কোথাও নেই।
বাবাকে কি জিজ্ঞেস করব? সে ভাবল।
“ট্রফিটা কোথায়, বাবা?” আর চেপে রাখতে না পেরে সে বলে ফেলল।
বাবা তার দিকে তাকালেন, হাসপাতালে থাকা সঙ্গীর জন্য তাঁর মন আর হৃদয় হতাশায় ভরা।
“ওখানেই তো থাকার কথা,” তিনি বললেন।
“নেই,” উত্তর দিল মেরি।
“হয়তো অন্য কোথাও রেখেছি।”
চারপাশ চুপচাপ হয়ে গেল।
মেরি ওপরে নিজের ঘরে চলে গেল।
মেরি শুনল বাবা সিঁড়ি বেয়ে উঠছেন। “ইশ্,” তিনি বিড়বিড় করলেন।
মেরি বাইরে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রইল।
“ট্রফিটা আমার মনে আছে,” সে মনে মনে ভাবল।
“আমি আর কখনো ওটা ছুঁতে পারব না। আসলে কখনোই পারিনি।”
“হয়তো স্মৃতিটুকুই যথেষ্ট।”
“না,” হাসিমুখে সে ভাবল।
স্মৃতিটুকুই যথেষ্ট।
পেম্বা উমোজার একটি গল্প