হাসিখুশি মজুঙ্গু

সোয়াহিলির একটি শব্দ

হাসিখুশি মজুঙ্গু — a story by Pemba Umoja

দাড়িওয়ালা এক উশকোখুশকো তরুণ ছিল। দেখে মনে হতো সে এক-দুই সপ্তাহ স্নান করেনি। সে একা ছিল, কিন্তু তার পিঠে থাকত একটা বড় ব্যাকপ্যাক, তাতে ঝোলানো অনেক অদ্ভুত জিনিস।

তানজানিয়া আর কেনিয়ার সীমান্ত ঘেঁষে থাকা ছোট্ট শহর রোংগাই দিয়ে সে যখন হাঁটত, তাকে শোনাত গলায় অনেক ঘণ্টা বাঁধা একটা গরুর মতো।

তার ব্যাকপ্যাক খুব শব্দ করত, কিন্তু তার মুখে সবসময় থাকত বড়, বড় একটা হাসি।

সে সোয়াহিলির শুধু একটা শব্দই জানত: জাম্বো, মানে নমস্কার।

টুংটাং শব্দ করে রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে সে প্রত্যেক পথচারীকে বলত জাম্বো।

কেউ কেউ লাজুক ছিল। তারা অন্য দিকে তাকানোর চেষ্টা করত, কিন্তু তাতে বুনো দাড়িওয়ালা লোকটি থামত না।

সবাই তাকে ডাকতে শুরু করল হাসিখুশি মজুঙ্গু।

সোয়াহিলিতে মজুঙ্গু মানে বিদেশি। আসলে এর মানে সাদা মানুষ।

একদিন এস্থার নামে একটা ছোট্ট মেয়ে রাস্তায় বসে কাঁদছিল। তার বড় ভাই সবসময় তাকে জ্বালাতন করত। কেন, সে জানত না।

এস্থার রাস্তার কিনারায় বসে ছিল — জায়গাটা খুব একটা নিরাপদ নয়।

ঠিক তখনই হাসিখুশি মজুঙ্গু টুংটাং শব্দ করে এসে পড়ল।

এস্থার তার কথা জানত। সবাই তার কথা জানত।

তাই সে তাড়াতাড়ি মুখ ফিরিয়ে নিল।

কিন্তু তাতে হাসিখুশি মজুঙ্গু কখনো থামেনি।

“জাম্বো,” বিরাট এক হাসি নিয়ে বলল সে।

কিন্তু এস্থার কেঁদেই চলল।

তখন হাসিখুশি মজুঙ্গু থামল।

“কী হয়েছে? ওখান থেকে উঠে এসো। গাড়ি আর ট্রাক যাতায়াতের মধ্যে রাস্তার কিনারায় বসা বিপজ্জনক।”

হাত নেড়ে সে মেয়েটিকে উঠে আসতে বলল।

এস্থার ইশারাটা বুঝল। তার চোখের উদ্বেগটুকু তার ভালো লাগল।

এস্থারের গাল বেয়ে একফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ার সময় সে তার চোখের দিকে তাকাল।

“হাকুনা মাতাতা,” সে বলল।

এর মানে চিন্তা কোরো না।

এস্থার অবাক হলো। কেউ জানত না যে হাসিখুশি মজুঙ্গু জাম্বো ছাড়া আর কিছু বলতে পারে।

এস্থার হেসে বলল,

“আসান্তে সানা।”

অনেক ধন্যবাদ।

“কারিবু,” সোয়াহিলিতে বলল হাসিখুশি মজুঙ্গু।

“তোমাকে স্বাগত। আমার নাম জন। তোমার সঙ্গে পরিচয় হয়ে ভালো লাগল।”

এস্থার একটু একটু ইংরেজি বলতে পারত। শিখতে সে খুব ভালোবাসত।

“আমার নাম এস্থার। তোমার সঙ্গে পরিচয় হয়ে ভালো লাগল।”

এস্থার তার মাকে জনের গল্প বলল।

তার মা বললেন তাঁর বন্ধুদের।

তাঁর বন্ধুরা বললেন গোটা শহরকে।

সেই মুহূর্ত থেকে, যে ব্যাকপ্যাকওয়ালা লোকটি হাঁটলে টুংটাং শব্দ হতো, সে আর হাসিখুশি মজুঙ্গু রইল না।

রোংগাইয়ের মানুষের কাছে

সে ছিল জন।

পেম্বা উমোজার একটি গল্প