মধুর রাজকুমার
উত্তরাধিকারের এক নীতিকথা
মধুর রাজকুমার ছিল কনিষ্ঠতম, তার উপরে তিন দিদি। দিদিরা যত আদুরে, সে ততই নির্মল।
তার দিদিরা নিজেদের গয়না, পোশাক, আর খেলার পুতুলঘর নিয়ে বড়াই করত।
কিন্তু মধুর রাজকুমার পরত ছেঁড়া পোশাক, খেলত প্রাসাদের ধূলিধূসরিত ক্রীড়াঙ্গনে পড়ে থাকা পুরোনো খেলনা দিয়ে।
সে বিনয়ী ও দয়ালু হয়ে বেড়ে উঠল।
তার দিদিরা সর্বদা তাদের আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে চিন্তিত থাকত।
কে বেশি সুন্দর? কে বেশি ছিপছিপে? কে বেশি ধনী?
কার সাথে কার বিয়ে হল?
তারা কত সুদর্শন, ছিপছিপে, আর ধনী ছিল?
একদিন মধুর রাজকুমারের বাবা-মা মারা গেলেন।
দিদিরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও তার দিকে ফিরল এবং প্রাসাদের চাবি তার হাতে তুলে দিল।
সে তার বাবার রেশমি পোশাক পরল, মায়ের মুষ্টি-সমান পান্নার পদক গলায় দিল, নিজের ফুটো মোজা জোড়া বাছুরের চামড়ার জুতোয় গলিয়ে দিল, এবং তারপর তার দিদিদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল।
সে তার প্রাসাদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল।
সে তার প্রজাদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল।
সে তার দিগন্তবিস্তৃত রাজ্যের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল।
“এই মুলুকে সবচেয়ে ধনী কে?” সে জিজ্ঞাসা করল। “কে?” সে দাবি জানাল।
তার দিদিরা একে অপরের দিকে তাকাল, নিজের ভাইকে তারা যেন চিনতেই পারছিল না।
“তুমি। তুমিই,” তারা সঙ্কোচের সঙ্গে উত্তর দিল।
তাদের ভাই হাসল। সে এক চুমুক মদিরা পান করল। তারপর আর এক চুমুক।
সে ভেড়া ও টার্কির রান থেকে গোগ্রাসে মাংস ছিঁড়ে খেতে লাগল আর রেশমি হাতায় মুখ মুছতে লাগল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চিলতে হাসি।
“আমিই। আমিই,” সে পুনরাবৃত্তি করল।
A story by Pemba Umoja