মানবিক দয়ার এক ধারণা
বরফ-ঢাকা প্রান্তরে

দীর্ঘ শিকার চলেছিল—মাংসের খোঁজে বরফ-ঢাকা প্রান্তরে দশ দিন।
শিকারি দলের দুজন ক্ষুধায় মরে পড়েছিল।
অবশেষে তারা একটা ম্যামথ দেখতে পেল। বীভৎস। সেটাও ক্ষুধার্ত ছিল।
মানুষ বনাম ম্যামথ, ক্ষুধার ঠান্ডা ধূসর শীতে টিকে থাকার লড়াই।
ম্যামথ হেরে গেল।
মাংস বয়ে নেওয়ার জন্য তারা সেখানেই সেটাকে কেটে টুকরো করল।
কাজটা ছিল রক্তাক্ত। গুহায় ফেরার সময় তারা রক্তে মাখামাখি, শুকনো রক্তে ঢাকা।
অন্যরা অপেক্ষা করছিল—অসুস্থরা, বৃদ্ধরা, নারীরা, শিশুরা।
সবাই ক্ষুধার্ত ছিল।
মেয়েটি ছিল তরুণী—নিষ্পাপ কোমল চোখ, যা সবসময় যেন তাকে অনুসরণ করত।
তার পিঠে ছিল ম্যামথের বুকের মাংস—হাত আর মুখ শুকনো রক্তে ঢাকা।
টাটকা মাংস আগুনে ঝলসাতে সে আর তর সইতে পারছিল না—পুড়িয়ে মুচমুচে টুকরো করে, তারপর রসালো গ্রাসগুলো গোগ্রাসে খাবে।
কিন্তু আগুনের গর্তের কাছে যেতে যেতে সে ভিড়ের মধ্যে মেয়েটিকে খুঁজল।
সে তাকে পেল পেছন থেকে উঁকি দিতে, আরও কাছে আসতে পারছিল না।
সে তার মুগুর তুলে চিৎকার করল, তার ধারালো দাঁত বেরিয়ে পড়ল।
সে হাত বাড়িয়ে মেয়েটির কবজি ধরে হ্যাঁচকা টানে সামনে নিয়ে এল।
সে তাকে টেনে আগুনের গর্তের কাছে নিয়ে গেল—মেয়েটি পাথরে হোঁচট খেল।
তারা পাশাপাশি উবু হয়ে বসল, ঊরুতে ঊরু ছুঁয়ে।
তারা ম্যামথের মাংস ঝলসাল। সে নিজের আঙুলে করে মেয়েটিকে খাওয়াল। মেয়েটি চেটে আঙুলগুলো থেকে রক্ত পরিষ্কার করে দিল।
এ ছিল দয়ার কোনো এক ধারণা—কোনো এক ধারণা।
পেম্বা উমোজার একটি গল্প