সোলিটা
আনন্দ ছড়ানোর গল্প
সোলিটা ছিল গ্রামের সবচেয়ে হাসিখুশি মেয়ে।
কিন্তু গ্রামটা ছিল বিষণ্ণ। মানুষেরা কম হাসতো, কম কথা বলতো।
সোলিটা প্রতিদিন মাঠ থেকে বুনোফুল তুলে আনতো।
সে প্রতিটি বাড়ির দরজায় একটি করে ফুল রেখে দিতো।
প্রথমে কেউ কিছু বলেনি।
তারপর একদিন বৃদ্ধ রাখাল হাসলো। তারপর বাজারের মহিলা।
ধীরে ধীরে পুরো গ্রাম হাসতে শুরু করলো।
"তুমি কী করলে?" গ্রামপ্রধান জিজ্ঞেস করলেন।
"আমি শুধু ফুল দিয়েছি," সোলিটা বললো। "হাসি তো তাদের নিজের ছিল।"
"তুমি কেন হাসো?" একজন লোক জিজ্ঞেস করল।
"কারণ সূর্য উঠেছে," সোলিতা বলল।
"সূর্য প্রতিদিনই ওঠে।"
"তাই তো আমি প্রতিদিনই হাসি।"
লোকটি কী বলবে ভেবে পেল না।
সোলিতা বুনো ফুল তুলত এবং মানুষের দরজায় রেখে আসত।
কোনো নোট ছাড়া। কোনো নাম ছাড়া। শুধু ফুল।
প্রথমে মানুষ বিভ্রান্ত হলো।
"কে রেখে গেছে এগুলো?"
কেউ জানত না।
কিন্তু ফুলগুলো সুন্দর ছিল, আর ধীরে ধীরে মানুষও বদলাতে শুরু করল।
রুটিওয়ালা কিছুটা বেশি সময় হাসত।
ডাকপিয়ন শিস দিত।
বৃদ্ধা মহিলা যে কখনো বাইরে আসত না, সে তার জানালা খুলে দিল।
"কী হচ্ছে এই গ্রামে?" মেয়র জিজ্ঞেস করল।
"কিছুই না," কেউ বলল। "শুধু ফুল।"
কিন্তু সবাই জানত এটা ফুলের চেয়ে বেশি কিছু।
এটা ছিল মনে করিয়ে দেওয়া।
যে সৌন্দর্য বিনামূল্যে।
আর দয়া হলো একটা পছন্দ।
একদিন, তারা জানতে পারল এটা সোলিতা।
কিন্তু ততদিনে আর কিছু যায় আসে না।
কারণ ফুলগুলো ইতিমধ্যে তাদের কাজ করে ফেলেছে।
সেগুলো মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছে কিভাবে দেখতে হয়।
কিভাবে লক্ষ্য করতে হয়।
কিভাবে ছোট জিনিসে সুন্দর কিছু খুঁজে পেতে হয়।
আর সোলিতা?
সে পরের দিনও হাসল।
কারণ সূর্য উঠেছিল।
A story by Pemba Umoja