জুতো
দরজায় এক মুহূর্তের থামা
তুমি কি চাইবে না যে তুমি পিছলে না পড়ো?
পিতা তাঁর বাড়ির প্রবেশপথ থেকে বেরিয়ে এসে ছেলের স্যান্ডেলে পা পিছলে ফেললেন।
শালা ছেলেটা, তিনি নিজের নিঃশ্বাসের নিচে গজগজ করলেন। এত বেপরোয়া কেন? কতই না ভালো হতো যদি ও থাকবার জন্য অন্য কোনো জায়গা খুঁজে নিত।
আর তখনই তিনি থেমে গেলেন।
মনে পড়ল যুদ্ধের কথা। মরুভূমি থেকে বড় ভাইয়ের পাঠানো চিঠিগুলোর কথা। সেই অফিসারের কথা, যিনি নিজে এসে মায়ের হাতে চিঠিটা তুলে দিয়েছিলেন — ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে।
ফ্রেন্ডলি ফায়ার — তাতে এই লেখা ছিল।
মনে পড়ল, মা ভাইয়ের প্রিয় মোজা আর জুতোগুলো একটা বাক্সে ভরে সেই আলমারিতে রেখে দিয়েছিলেন, যে আলমারিটা মায়ের চলে যাওয়ার পর তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন।
মনে হল, এই দুনিয়ার প্রায় যেকোনো কিছুই তিনি করতে পারতেন, শুধু যদি একবার ভাইয়ের জুতোয়, মায়ের জুতোয়, বাবার জুতোয় পা গলাতে পারতেন।
তিনি একটা নিঃশ্বাস নিলেন, ছেলের স্যান্ডেল দুটো যত্ন করে দেয়ালের গায়ে সাজিয়ে রাখলেন।
মাত্র এই কয়েক মুহূর্তে কী এক যাত্রায় এই স্যান্ডেল দুটো তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল।
A story by Pemba Umoja