লাল, নীল এবং সবুজ মানুষ
ভাগ করে নেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত
লাল মানুষেরা থাকত লাল শহরে।
নীল মানুষেরা থাকত নীল শহরে।
আর সবুজ মানুষেরা থাকত সবুজ শহরে।
লাল মানুষেরা লাল কথা বলত।
নীল মানুষেরা নীল কথা বলত।
আর সবুজ মানুষেরা সবুজ কথা বলত।
লাল মানুষেরা লাল খাবার খেত আর এক লাল ঈশ্বরের পূজা করত।
নীল মানুষেরা নীল খাবার খেত আর এক নীল ঈশ্বরের পূজা করত।
আর সবুজ মানুষেরা সবুজ খাবার খেত আর এক সবুজ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করত।
বছরের প্রথম দিনে, লাল শহরে এক নতুন শিশু জন্ম নিল। তার মুখখানা ছিল হলুদ। লাল মানুষেরা বুঝতেই পারল না কী করবে।
নতুন বছরের তৃতীয় দিনে, সবুজ শহরে এক বেগুনি শিশু জন্ম নিল। সেটা ছিল এমন এক রঙ, যা সবুজ মানুষেরা কোনোদিন দেখেনি।
একদিন, এক বুড়ো লাল মানুষ শুনে ফেলল, এক তরুণ লাল নীল ভাষায় কথা বলছে।
এক বুড়ি নীল মহিলা শুনে ফেলল, এক তরুণী নীল মেয়ে লাল ভাষায় কথা বলছে।
আর এক রোগা সবুজ মানুষ, যে সবুজ বীজ বুনছিল, দেখে ফেলল, এক নীল মানুষ লাল খাবার খাচ্ছে।
সবুজ মানুষটি নীল মানুষের কাছে এগিয়ে গিয়ে নিজের সবুজ পেটের ওপর সবুজ হাত ঘুরিয়ে ইশারা করল।
নীল মানুষ হাসল, তার নীল দাঁত ঝিকিয়ে উঠল। সে তাকে এক টুকরো লাল ফল বাড়িয়ে দিল।
রোগা সবুজ মানুষ ইতস্তত করল। সে কোনোদিন লাল খাবার খায়নি। কোনোদিন কোনো নীল মানুষের হাত থেকে কিছু নেয়নি।
কিন্তু তার বুকের ভেতরে কী যেন ধীরে ধীরে কেঁপে উঠল।
সে হাত বাড়াল। তার সবুজ ত্বক নীল মানুষের আঙুলের ডগায় ছুঁয়ে গেল।
সে লাল খাবারটি নিল। নিজের সবুজ দাঁত গেঁথে দিল তার লাল শাঁসে।
লাল রস তার সবুজ ঠোঁটের কোণ দিয়ে গড়িয়ে, সবুজ গলা বেয়ে, সবুজ বুকে গিয়ে পড়ল।
নীল মানুষও লাল ফলে এক কামড় বসাল। রস তার ঊরু পর্যন্ত গড়িয়ে পড়ল।
সবুজ মানুষ নীল মানুষের দিকে তাকাল। নীল মানুষ সবুজ মানুষের দিকে স্থির চোখে চেয়ে রইল।
তারা দু'জনে হেসে উঠল। নীল মানুষ নিজের ঝোলায় হাত ঢুকিয়ে আরও এক টুকরো লাল ফল বের করে সবুজ মানুষের হাতে তুলে দিল।
তাদের সবুজ আর নীল আঙুলের ডগা একসঙ্গে ডুবে গেল লাল ফলের ভেতর।
রস তাদের পা বেয়ে নেমে এসে পায়ের কাছে লাল ডোবা তৈরি করে ফেলল।
নীল মানুষের ঝোলার সব লাল ফল তারা শেষ করে ফেলল।
একটি টুকরোও আর বাকি রইল না।
শুধু রয়ে গেল লাল রসের এক বড় ডোবা।
A story by Pemba Umoja