দয়া
যে নামে বাঁচা যায়

সমুদ্রের উল্টো দিকে এক গলির ভেতরে দয়া নামে এক বুড়ো মানুষ থাকতেন। ছেলেমেয়েরা প্রায়ই তাঁর ছোট্ট কুঁড়েঘরের পাশ দিয়ে দৌড়ে যেত আর চেঁচিয়ে বলত, “নোংরা বুড়ো।” দয়ার বাড়ি তাদের বাড়ির মতো জমকালো ছিল না, কিন্তু তা ছিল পরিষ্কার আর ভালোবাসায় ভরা।
দয়া যখন হেঁটে যেতেন, পথচারীরা তাঁর দিকে ঘৃণার চোখে তাকাত। দয়ার জামাকাপড় ছিল ছেঁড়া আর পুরোনো, কিন্তু সবসময় পরিষ্কার আর ইস্ত্রি করা।
একদিন পাড়ার এক ছেলে দয়ার কুঁড়েঘরের কাছে বসে কাঁদছিল।
“কী হয়েছে, আহা বাছা?” জিজ্ঞেস করলেন দয়া।
“আমার ভাইবোনেরা সবসময় আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করে,” ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে উত্তর দিল।
“বুঝেছি,” ছেলেটিকে ভালো করে দেখে বললেন বুড়ো মানুষটি। “মনে হচ্ছে তোমাকে চিনি। সেদিন যে ছেলেরা আমাকে নোংরা বুড়ো বলেছিল, তুমি তাদের একজন।”
ছেলেটি লাজুকভাবে চোখ সরিয়ে নিল। “হ্যাঁ, ওটা আমিই ছিলাম,” ছেলেটি স্বীকার করল। “আমি দুঃখিত।”
“ঠিক আছে,” উত্তর দিলেন দয়া। “তোমার বয়সে আমিও তোমার মতোই ছিলাম। আমিও অন্যদের নিয়ে ঠাট্টা করতাম। হয়তো একদিন ছোট ছেলেমেয়েরা তোমাকেও নোংরা বুড়ো বলবে,” হেসে বললেন দয়া।
ছেলেটি খিলখিল করে হাসল আর দয়ার চোখের দিকে তাকাল।
বুড়ো মানুষটির চোখ সমুদ্রের মতোই ঝিকমিক করছিল। “তোমার দুঃখের একটা ওষুধ আমার কাছে আছে।”
“কী সেটা?” জিজ্ঞেস করল ছেলেটি, তার চোখ ঝিনুকের মতো বড় বড় হয়ে উঠল।
“সেই একই ওষুধ, যা অনেক, অনেক দিন আগে আমাকে দেওয়া হয়েছিল।”
ছেলেটি নাক কুঁচকে কৌতূহলী চোখে তাঁর দিকে তাকাল।
“আমি তোমাকে একটা ডাকনাম দেব,” ছেলেটির দেখা সবচেয়ে উজ্জ্বল হাসি হেসে বললেন বুড়ো মানুষটি।
“এখন থেকে তোমারও ঠিক আমার মতো একটা নাম থাকবে।”
বুড়ো মানুষটি তাঁর লম্বা আঙুল দিয়ে ছেলেটির নাকের ডগায় আলতো করে টোকা দিলেন। “দয়া,” তিনি ঘোষণা করলেন।
দয়া।
পেম্বা উমোজার একটি গল্প