কিরিবাটির আকাশের মেঘ জ্যাসপার
এক মেঘ যে রূপ বদলাতে শিখেছিল, আর তার প্রহরায় থাকা এক দ্বীপের কথা
জ্যাসপার ছিল একটি মেঘ। সে কিরিবাটি দেশের তারাওয়া দ্বীপের আকাশে থাকত, যার উচ্চারণ হলো ‘কিরিবাস’।
অন্যান্য মেঘেদের চেয়ে জ্যাসপারের বয়স ছিল অনেক বেশি, যারা সাধারণত দুই থেকে দশ ঘণ্টা বাঁচে। জ্যাসপারের বয়স ছিল ৫০০ বছর।
তুমি হয়তো জিজ্ঞেস করবে, একটা মেঘের বয়স এত কী করে হতে পারে?
জ্যাসপার কায়ান্তরের কৌশল শিখেছিল।
হ্যাঁ, কায়ান্তর। মানতেই হবে, এটা একটা বেশ কেতাবি শব্দ। শুধু আমিই যে তোমাকে চমক দিতে চাইছি, তা কিন্তু নয়।
১৪০৫ সাল নাগাদ প্রকাশিত ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় অভিধান’ অনুযায়ী, কায়ান্তর হলো এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হওয়া।
তুমি কি কখনও আকাশে কুমির দেখেছ?
জ্যাসপার মাঝে মাঝে কুমিরের রূপ ধারণ করত। বাচ্চাদের ভয় দেখিয়ে সে বেশ মজা পেত, কিন্তু বড়রাই যেন সবসময় বেশি ভয় পেত, বিশেষ করে যারা নিজেদের খুব শক্ত ভাবত।
জ্যাসপারের দৃষ্টিশক্তি ছিল খুব প্রখর। সে দেখতে পেত ওরা কেমন ছটফট করত, বিশেষ করে যখন সে তার বড় চোয়াল ফাঁক করে ধারালো দাঁতগুলো দেখাত।
কিন্তু কায়ান্তরের মাধ্যমে জ্যাসপার আবার রূপ বদলে হয়ে যেত একটি সুন্দর কাঠগোলাপ ফুল। কাঠগোলাপ ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। ফুলগুলোর কী সুন্দর গন্ধ, যদি জ্যাসপার গন্ধ নিতে পারত!
বাচ্চারা যখন আকাশে কাঠগোলাপ ফুল দেখতে পেয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকত আর তারপর তাদের খুঁজতে যেত, এটা দেখতে জ্যাসপারের খুব ভালো লাগত।
বাচ্চাদের নজর এড়াত না কিছুই। বড়রাই বরং এসব প্রায় লক্ষ্য করত না।
কোনও দিন সে কুমির। কোনও দিন বা কাঠগোলাপ।
জ্যাসপার যা চাইত, সেই রূপই ধারণ করতে পারত।
সময়ের সাথে সাথে জ্যাসপার চিন্তিত হতে শুরু করল। কিরিবাটি ক্রমশ ছোট থেকে ছোট হয়ে আসছিল। আর সমুদ্র হচ্ছিল বড় থেকে আরও বড়।
মানুষদের তাদের বাড়িঘর পিছিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছিল। তারা ম্যানগ্রোভ গাছ লাগাচ্ছিল, যে গাছের লম্বা লম্বা শিকড় বালিকে ধরে রাখে।
কিন্তু বছরের পর বছর ধরে দ্বীপটি ছোট থেকে ছোট হতে লাগল, আর সমুদ্র বড় থেকে আরও বড়।
জ্যাসপারের রঙ ঘন আর বেগুনি হয়ে গেল। সে বৃষ্টির জল হয়ে অনেক কাঁদল। তার খুব দুঃখ হয়েছিল।
বাচ্চাদের খেলার জন্য সৈকতে জায়গা কমে গিয়েছিল।
সময়ের সাথে সাথে লোকেরা নৌকা আর উড়োজাহাজে করে চলে যেতে শুরু করল।
জ্যাসপার একটি বাড়ির রূপ ধারণ করে কিরিবাটির মানুষদের থেকে যাওয়ার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করল।
জ্যাসপার চায়নি ওরা চলে যাক।
বছর কেটে গেল। সমুদ্র আরও বড় হলো। শীঘ্রই সব মানুষ চলে গেল।
জ্যাসপার থেকে গেল।
জ্যাসপার কিরিবাটির শিশুদের রূপ ধারণ করল, কিন্তু তারা তো চলে গিয়েছিল। শুধু উড়ুক্কু মাছেরা তাকিয়ে দেখত।
জ্যাসপারের রঙ ঘন আর বেগুনি হয়ে গেল। সে বৃষ্টি হয়ে ঝরতে লাগল, ঝরতেই লাগল, ঝরেই চলল।
জ্যাসপার কিরিবাটির শিশুদের কখনও ভুলবে না।
সে আশা করত, ওরা যেখানেই যাক না কেন, যেন কাঠগোলাপ ফুলে ঘেরা থাকে।
A story by Pemba Umoja