ঠাকুমা সূর্য
এক মহাজাগতিক আলিঙ্গন

চাঁদ ছিল মঙ্গলের সবচেয়ে ছোট ছেলে।
বৃহস্পতি আর প্লুটো ছিল তার কাকা।
বুধ আর শনি, তার পিসি।
নেপচুন ছিল তার বোন।
আকাশে চাঁদের লক্ষ লক্ষ তুতো ভাইবোন ছিল।
সে তাদের সবার নাম মনে রাখতে পারত না।
সূর্য ছিল তার ঠাকুমা।
চাঁদ তার ঠাকুমাকে খুব ভালোবাসত।
“আমি শুধু তোমাকে একবার জড়িয়ে ধরতে চাই,” ঠাকুমার রশ্মি যখন তার ওপর দিয়ে যেত, সে বলত।
“এভাবেই তো আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরি,” ঠাকুমা উত্তর দিতেন, “তোমার ওপর আমার রশ্মি ছড়িয়ে।”
“না, আমি সত্যিকারের আলিঙ্গন চাই, নিচের মানুষেরা যেমন করে,” উত্তর দিল চাঁদ।
“আচ্ছা, দেখি,” বললেন ঠাকুমা। “জানি না সেটা সম্ভব কি না। তাতে মহাবিশ্বের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।”
চাঁদ ভ্রূ কোঁচকাল।
সে তার ঠাকুমাকে খুব ভালোবাসত।
সে শুধু একটা সত্যিকারের আলিঙ্গন চাইত।
“দেখি কী করতে পারি। আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে,” বললেন সূর্য, আর চাঁদের কানে কানে ফিসফিস করে সেটা বললেন।
এক বিশেষ রাতে, সূর্য তাঁর সমস্ত শক্তি এক করলেন, চাঁদও তা-ই করল।
চাঁদ এসে দাঁড়াল ঠিক সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে।
সূর্যের সব রশ্মি চাঁদকে জড়িয়ে ধরল, পৃথিবীর দিকে যাওয়া রশ্মি পুরোপুরি আটকে দিয়ে।
সূর্য তাঁর সর্বশক্তি দিয়ে চাঁদকে জড়িয়ে ধরলেন।
অবশেষে ঠাকুমা আর নাতি এক হলো।
“আমি বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারব না,” বলে উঠলেন সূর্য।
“আমিও না,” সুন্দর জ্যোৎস্নামাখা হাসি হেসে বলল চাঁদ।
“আমরা কালেভদ্রে—নীল চাঁদের রাতে—একে অপরকে জড়িয়ে ধরব,” চোখ টিপে উত্তর দিলেন ঠাকুমা সূর্য।
আর তারা তা-ই করল।
আর তারা তা-ই করল।
পেম্বা উমোজার একটি গল্প