স্বপ্নালয়

একটি শান্ত মেয়ে তার কণ্ঠ খুঁজে পায়

স্বপ্নালয় — a story by Pemba Umoja

মায়া কখনো ক্লাসে হাত তুলতো না।

সে জানতো উত্তর, কিন্তু বলতে পারতো না।

একদিন স্কুলের পেছনের বাগানে সে একটি দরজা দেখলো যেটা আগে কখনো ছিল না।

দরজা খুলে সে ঢুকলো। ভেতরে ছিল আলোয় ভরা একটি ঘর।

"এটা স্বপ্নালয়," একটি কণ্ঠ বললো। "এখানে তুমি যা ভাবো তা সত্যি হয়।"

মায়া ভাবলো একটি গান। এবং পুরো ঘর সেই গানে ভরে গেলো।

সেই দিন থেকে মায়া জানলো — তার কণ্ঠ সবসময় ছিল, শুধু সাহস দরকার ছিল।

সে ভেতরে ঢুকল।

ভেতরটা বাইরের চেয়ে বড় ছিল — যেভাবে স্বপ্নগুলো সবসময় হয়।

দেয়ালগুলো নড়ছিল, শ্বাস নিচ্ছিল, বেঁচে ছিল।

"স্বাগতম," একটি কণ্ঠ বলল।

"তুমি কে?" আরিয়া জিজ্ঞেস করল।

"আমি এই জায়গা। আমি সেই জায়গা যেখানে স্বপ্ন জন্মায়।"

"স্বপ্ন তৈরি করা যায়?"

"না। স্বপ্ন আবিষ্কার করা হয়। তুমি ইতিমধ্যেই তোমারগুলো বহন করছো।"

আরিয়া নিচে তাকাল এবং দেখল তার হাত আলোকিত হয়ে আছে।

"এটা কী?" সে ফিসফিস করল।

"এটা তোমার উপহার। প্রতিটি মানুষের একটি আছে।"

"আমার উপহার কী?"

"সেটা তোমাকেই বের করতে হবে।"

আরিয়া ঘরের মধ্য দিয়ে হাঁটল।

প্রতিটি পদক্ষেপে, একটি স্মৃতি ভেসে উঠল।

তার মায়ের কণ্ঠ।

তার প্রথম গান।

একটি সকালে জেগে আরিয়া নিজেকে এমন এক জায়গায় পেল যা সে আগে দেখেনি।

একটি গোলাকার ঘর, জানালাবিহীন, কিন্তু আলোয় ভরা।

দেয়ালগুলো কাঠ বা পাথরের নয় — মাঝামাঝি কিছু।

ঘরের মাঝখানে একটি চেয়ার।

সে বসল।

বসার সাথে সাথে ঘরটা বদলাতে শুরু করল।

দেয়ালে ছবি ফুটে উঠল — পেইন্টিং নয়, স্মৃতি।

ছোটবেলায় মাঠে দৌড়ানো নিজেকে দেখল।

মাকে গান গাইতে দেখল।

প্রথমবার একা স্কুলে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য।

প্রতিটি স্মৃতি ভিন্ন রঙে জ্বলছিল।

সুখের স্মৃতি ছিল সোনালি।

দুঃখের ছিল গাঢ় নীল, কিন্তু তবুও সুন্দর।

"এখানেই তোমার স্বপ্নগুলো বাস করে," কণ্ঠটি বলল।

সে ঘুরে তাকাল কিন্তু কেউ ছিল না।

"তুমি কে?" সে জিজ্ঞেস করল।

"আমি ঘরটাই," কণ্ঠ উত্তর দিল। "আমি স্বপ্নদর্শী।"

আরিয়া প্রথমে বুঝতে পারল না।

"প্রত্যেকের ভেতরে একজন স্বপ্নদর্শী আছে," কণ্ঠ বলল। "কিন্তু কমজনই তাকে দেখতে আসে।"

"আমি এখানে কেন?" সে জিজ্ঞেস করল।

"কারণ তুমি প্রস্তুত।"

"কিসের জন্য প্রস্তুত?"

"তোমার ভেতরের জিনিস পৃথিবীর সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।"

আরিয়া আবার দেয়ালের দিকে তাকাল।

স্মৃতিগুলো অন্য কিছুতে রূপান্তরিত হচ্ছিল — ধারণা, গল্প, অগাওয়া গান।

"এই সব আমার ভেতরে?" সে ফিসফিস করল।

"হ্যাঁ। আর আরো অনেক। তুমি যা ভাবছো তার চেয়ে অনেক বেশি।"

বুকের মধ্যে উষ্ণতা অনুভব করল — ভয় নয়, কৃতজ্ঞতার মতো কিছু।

"কিন্তু কেউ যদি আমার ভাগ করা জিনিস পছন্দ না করে?"

"সেটা উদ্দেশ্য নয়," কণ্ঠ মৃদুভাবে বলল।

"উদ্দেশ্য পছন্দ হওয়া নয়। উদ্দেশ্য বলা।"

আরিয়া উঠে দাঁড়াল।

"শুরু করব কিভাবে?"

"তুমি ইতিমধ্যেই শুরু করেছো। এখানে আসাটাই শুরু।"

অনেকদিন পর প্রথমবার সে হাসল।

ঘরটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে লাগল।

দ্রুত নয়, ধীরে, যেন একটি স্বপ্ন আলতো করে শেষ হচ্ছে।

চোখ খুলতেই দেখল সে বিছানায়।

কিন্তু কিছু একটা আলাদা ছিল।

টেবিলে একটি খাতা ছিল যা আগে ছিল না।

খুলল।

প্রথম পাতা ফাঁকা।

কিন্তু নিচে ছোট অক্ষরে লেখা:

"এখান থেকে শুরু করো।"

আর সে শুরু করল।

প্রতিদিন লিখত।

প্রথমদিকে শব্দগুলো ছোট আর লাজুক ছিল।

তারপর বড় হলো।

যে মাঠে দৌড়াত তার কথা লিখল।

মায়ের গানের কথা লিখল।

ভয়, একাকীত্ব আর নীরব আনন্দের কথা।

কাউকে দেখায়নি — এখনো না।

কিন্তু জানত সময় আসবে।

একদিন পার্কের বেঞ্চে খাতাটা রেখে এলো।

কে পাবে জানত না।

কিন্তু জানত কেউ পাবে।

আর যে পাবে, সে জানবে সে একা নয়।

কারণ গল্পেরা এটাই করে।

অপরিচিতদের জুড়ে দেয়।

পৃথিবীকে একটু ছোট করে।

একটু উষ্ণ করে।

আর একটু কম একাকী।

সেই রাতে আরিয়া আবার স্বপ্ন দেখল।

কিন্তু এবার গোলাকার ঘরে সে একা ছিল না।

আরো মানুষ ছিল — দূরদূরান্ত থেকে, প্রত্যেকের হাতে নিজের খাতা।

তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসল।

কথার দরকার ছিল না।

সবাই একই জিনিস জানত:

গল্পই সেই সেতু যা আমরা হৃদয়ে হৃদয়ে গড়ি।

একটার পর একটা।

একটি শব্দের পর আরেকটি।

যতক্ষণ না কেউ একা থাকে।

আরিয়া জেগে উঠল, মুখে হাসি।

কলম তুলে নিল।

আর লিখতে শুরু করল।

লাল সাইনবোর্ড

স্বপ্নালয়ের ভেতরে

উপহার

কনসার্ট

স্বপ্নালয়, সাইনবোর্ডে লেখা ছিল।

স্বপ্নালয়, পড়া গেল সাইনবোর্ডে।

স্বপ্নালয়, এই লেখা ছিল।

লা, লা, লা। ফা, লা, লা। লা, লা।

A story by Pemba Umoja