ঘোড়ার গাড়ির সফর
একটি ভিক্টোরীয় উপকথা

মহিলা ঘোড়ার গাড়িতে ওঠেন।
“ওক ওয়ার্ফ, দয়া করে।”
টপ হ্যাটের আড়ালে চালক ঘোড়াগুলোকে চাবুক কষায়। শান্ত এক রবিবারের সকাল, রাস্তায় প্রায় কোনো গাড়িই নেই।
“কী শান্ত সকাল,” ভাবেন চওড়া কিনারার টুপি পরা মহিলা।
ঝলমলে রোদের নিচে গাড়িটা ধীরে ধীরে থামে। মাথার ওপর গাংচিলেরা চক্কর দেয়। নোনা বাতাসের গন্ধে মহিলার ফুসফুস ভরে যায়। “আহ্।”
“দশ পাউন্ড হবে,” বলে চালক, তার মুখ টুপির কিনারার ছায়ায় ঢাকা।
“দশ কী?”
“দশ পাউন্ড, ম্যাডাম।”
“কিন্তু তা তো সম্ভব না। মাত্র দশ মিনিট লেগেছে। রাস্তায় আর কোনো গাড়ি নেই। আজ রবিবার।”
“দশ পাউন্ড, ম্যাডাম।”
“আমি আমার স্বামীকে ডেকে আনছি। উনি ভেতরে আছেন।”
স্বামী হাজির হন।
“এসব কী ব্যাপার?” লাল মুখে জিজ্ঞেস করেন তিনি।
“দশ পাউন্ড,” আবার বলে চালক।
“এ তো অন্যায়। চলতি ভাড়া এক শিলিং ছয় পেন্স।”
“দশ পাউন্ড।”
“আমি আমার স্ত্রীর ব্যাগটা নিয়ে আসছি।”
গাড়ির পেছনে রাখা ব্যাগের হাতলে স্বামী তাঁর মসৃণ আঙুলগুলো রাখেন।
“ওটা ছোঁবেন না। আমার ভাড়া এখনো মেটানো হয়নি।”
চালক দুই হাতে ধাক্কা দিয়ে স্বামীকে কয়েক পা পিছনে সরিয়ে দেয়।
“আমি কনস্টেবল ডাকছি!” চেঁচিয়ে ওঠেন স্বামী।
কনস্টেবল আসেন।
“এসব কী ব্যাপার?” তিনি জিজ্ঞেস করেন।
“ভাড়া দশ পাউন্ড,” আবার বলে চালক।
“এ তো অন্যায়,” বলেন স্ত্রী।
“ডাকাতি,” যোগ করেন স্বামী। “আপনি কি বলতে চান, আমি যদি ক্যাফেতে এক কাপ চা অর্ডার করি আর ওরা আমার কাছে দশ পাউন্ড চায়, আমাকে দিতেই হবে?”
কনস্টেবল সায় দিয়ে মাথা নাড়েন।
“ও যে আপনাকে ধাক্কা দিল, সেই হামলার জন্য কি আপনি অভিযোগ করবেন?” জিজ্ঞেস করেন কনস্টেবল।
“আসলে, সেটা ভাড়ার ওপর নির্ভর করছে,” উত্তর দেন স্বামী।
“আপনি কি একটা ফৌজদারি অভিযোগ নিয়ে দর-কষাকষি করছেন, স্যার?” জিজ্ঞেস করেন কনস্টেবল।
স্বামী শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে উত্তর দেন।
“আপনাকে গ্রেপ্তার করা হলো, স্যার।
তবে আগে পুরো ভাড়াটা মিটিয়ে দিন।”
পেম্বা উমোজার একটি গল্প