বড় ভালুক, ছোট ভালুক

একটি আধুনিক উপকথা

বড় ভালুক, ছোট ভালুক — a story by Pemba Umoja

বড় ভালুকেরা থাকত নদীর উত্তর পাড়ে। ছোট ভালুকেরা থাকত দক্ষিণ পাড়ে।

বড় ভালুকেরা কুঁজো হয়ে থাকলেও প্রায় দুই মিটার উঁচু হতো। ছোট ভালুকেরা পেছনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ালেও এক মিটারও ছুঁতে পারত না।

বড় ভালুকেরা ছিল দক্ষ মাছশিকারি। ছোট ভালুকেরা প্রবল স্রোতে ভেসে যেত।

ছোট ভালুকেরা ছিল গাছে চড়ায় ওস্তাদ। বড় ভালুকেরা গাছে চড়লে ডাল ভেঙে পড়ে যেত।

বড় ভালুকেরা ছোট ভালুকদের পছন্দ করত না। ছোট ভালুকেরা বড় ভালুকদের পছন্দ করত না।

“কারণ বরাবর এমনই ছিল, এখন এমনই আছে, আর চিরকাল এমনই থাকবে,” দুই পাড়ের প্রবীণেরাই বলত।

নদীর মাঝখানে ছিল একটা ছোট্ট দ্বীপ। সম্প্রতি কিছু ছানা বুঝে ফেলেছিল যে তারা কাঠের গুঁড়িতে ভেসে, দাঁড় বেয়ে সেখানে পৌঁছাতে পারে।

যে ছানারা দাঁড় বেয়ে দ্বীপে যেত, তারা সবাই ছিল ছোট। কেউ বলতে পারত না তারা বড় হবে নাকি চিরকাল ছোটই থেকে যাবে।

ছানারা একসঙ্গে দুর্গ বানাত, লুকোচুরি খেলত, গাছে চড়ত। ছানারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করত না কে নদীর কোন পাড়ে থাকে। তারা শুধু খেলত।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু ছানা বড় হয়ে বড় ভালুক হলো, আর অন্যরা চিরকাল ছোটই রইল।

বড় ভালুক আর ছোট ভালুকেরা আর দ্বীপে যেত না, কারণ ওটা শুধু ছানারাই করত।

কিন্তু একে একে প্রবীণেরা মারা গেল, আর তখন একটা কিছু ঘটল।

যে বড় ভালুক আর ছোট ভালুকেরা একসঙ্গে খেলেছিল, তারা একে অপরের অভাব অনুভব করল। ভীষণভাবে একে অপরের অভাব অনুভব করল।

একদিন বড় ভালুকেরা সাঁতরে দ্বীপে গেল। ছোট ভালুকেরা কাঠের গুঁড়িতে ভেসে দাঁড় বেয়ে সেখানে গেল, ঠিক যেমন ছানা থাকতে যেত।

বড় ভালুকেরা আনল মাছ, ছোট ভালুকেরা আনল বাদাম, আর তারা একসঙ্গে খেল, খেলল, হাসল।

“কারণ বরাবর এমনই ছিল, এখন এমনই আছে, আর চিরকাল এমনই থাকবে,” দুই পাড়ের নতুন প্রবীণেরাই বলল।

পেম্বা উমোজার একটি গল্প