মনে রাখার মতো এক রাত
ভ্রমণের এক প্রেমের গল্প

বিদেশ থেকে আসা এক তরুণ ভবঘুরে সদ্য পরিচয় হওয়া আরেক যাযাবরের সঙ্গে একটা খোলা আকাশের নিচের রেস্তোরাঁয় ঢুকল। তারা একদল পর্যটকের সঙ্গে বসে ভ্রমণের গল্প ভাগ করে নিচ্ছিল।
“আমার বন্ধু কোথায়?” জিজ্ঞেস করল ভবঘুরে।
ঠিক তখনই, ঘরের এপাশ-ওপাশে তাকে খুঁজতে গিয়ে, তার চোখ আটকে গেল জীবনে দেখা সবচেয়ে অসাধারণ, সুন্দর মেয়েটির ওপর। যেন পুরো ঘর আর তার সব কোলাহল মিলিয়ে গেল।
সে যখন তাকিয়ে ছিল, মেয়েটিও সোজা তার দিকে ফিরে তাকাল। উঠোনের দুই প্রান্ত থেকে তাদের চোখ আটকে রইল।
তারপর ভবঘুরে খেয়াল করল, যাযাবরটি ঠিক মেয়েটির পাশেই বসে আছে, তার নিজের দেশের এক দম্পতির সঙ্গে কথা বলছে।
ভবঘুরে এগিয়ে গেল। জীবনে দেখা সবচেয়ে অসাধারণ, সুন্দর মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়ে সে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কোথা থেকে এসেছ?”
মেয়েটি উত্তর দিল, তারপর জিজ্ঞেস করল, “তুমি কোথা থেকে এসেছ?”
সারা রাত তারা কথা বলে কাটাল।
“এবার যাওয়ার সময় হয়েছে,” অনুযোগ করল পাশে বসা মেয়েটির বান্ধবী।
কিন্তু ভবঘুরে মেয়েটির কাঁধ ধরে আরেকটু থেকে যাওয়ার জন্য অনুনয় করল।
“চলো, তোমার বান্ধবীকে তোমাদের থাকার জায়গায় পৌঁছে দিই,” সে প্রস্তাব দিল। “তারপর আমরা সেতুর ওপর একটু হাঁটতে পারি।”
আর তারা তা-ই করল।
সেতুর তোরণ দিয়ে ঢোকার সময় ভবঘুরে জিজ্ঞেস করল, সে কি মেয়েটির ব্যাকপ্যাকটা বইতে পারে। মেয়েটি হেসে সেটা তার হাতে দিল।
তারা একটা প্রাচীন মূর্তির কাছে গেল আর ভোর পর্যন্ত তার নিচে বসে রইল।
“হায়, আমার ফ্লাইট,” বলে উঠল মেয়েটি। “আজ সকালে আমার ফ্লাইট।”
ভবঘুরে অসাধারণ, সুন্দর মেয়েটিকে তার থাকার জায়গায় পৌঁছে দিল। মেয়েটি ছুটে বিমানবন্দরে চলে গেল, অজান্তেই তার অর্ধেক জিনিসপত্র আলমারিতে ফেলে রেখে।
বাকি দিনটা ভবঘুরে ঘোরের মধ্যে ঘুরে বেড়াল।
“এইমাত্র কী হলো? আমি কোথায়?” সে মনে মনে ভাবল।
পৃথিবী নিল এক অন্য আকার, এক বদলে যাওয়া রং — যা সে আগে কখনো চেনেনি।
সে এক ফেরিওয়ালাকে খুঁজে পেল, যে সেতুর ছবি বিক্রি করছিল।
“ওই অসাধারণ, সুন্দর মেয়েটিকে আমি আর কখনো দেখব না,” সে ভাবল, “কিন্তু আমি সেতুর একই ছবির দুটো কপি কিনব — একটা তাকে পাঠাব, তার দেয়াল সাজাতে আর আমাদের ভাগ করে নেওয়া বিশেষ রাতটির কথা মনে করিয়ে দিতে, আর অন্যটা আমার দেয়াল সাজাতে।”
বহু বছর পর ছবি দুটো পাশাপাশি রাখা ছিল একই ছোট্ট টেবিলে — তাদের ওপর রোদের রেখা এসে পড়ছিল।
পেম্বা উমোজার একটি গল্প